লকডাউনের সময়ে শিপমেণ্ট বিড়ম্বনা

গত মার্চ মাস (২০২০) থেকে চলছে লকডাউন। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের মহামারী রোধে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো সহ বাংলাদেশ ও ভারতেও চলে লকডাউন। প্রথম অবস্থায় বাংলাদেশ-ভারতে শুধু মানুষের যাতায়াতের উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যায় সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি। লকডাউনের সময়ে শিপমেণ্ট বিড়ম্বনা তে পড়েন হাজারো ব্যবসায়ী। বাঙালির ঐতিহ্য পহেলা বৈশাখ এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদুল ফিতরের ব্যাপক প্রস্তুতি থমকে যায়। এই একই সময়ে শোনা যায় না না খবর। যার কিছু সত্য, কিছু ভুল, কিছু আংশিক সত্য, আবার কিছু বুঝার ভুল। এই বিষয়গুলি নিয়েই আজকের এই লেখা।

মে ২০২০ শে শুরু হয় প্রথম গুঞ্জন! বেনাপোল ল্যাণ্ডপোর্ট দিয়ে আমদানি শুরু হয়েছে! আসলে ঘটনা কি ঘটেছিলো? লকডাউনের সময় যেসকল পণ্যবাহী ট্রাক সীমান্তে আটকা পড়েছিলো সেগুলো খালাসের জন্য কাস্টমস প্রক্রিয়া চালু হয়েছিলো। তা থেকেই অনেকে ভেবে নিয়েছেন আমদানি শুরু হয়েছে। অথচ তারা জানেনও না যে বেনাপোল ল্যাণ্ডপোর্ট দিয়ে কি কি পণ্য আমদানি হয়। বেনাপোল ল্যাণ্ডপোর্ট দিয়ে সাধারণত Bulk Quantity পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যেমনঃ পেঁয়াজ, চাল, চিনি, ইণ্ডাস্ট্রিয়াল পণ্য/ হেভী পণ্য। আর তাতে করে লকডাউনের সময়ে শিপমেণ্ট বিড়ম্বনা তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় বাংলাদেশের অনলাইন বিজনেস বা ফ্যাশন ইণ্ডাস্ট্রি। যা মূলতঃ ভারত থেকে আমদানির উপর নির্ভরশীল। একজন প্রশ্ন উঠে আসে এই পণ্যগুলো কি আদৌ ল্যাণ্ডপোর্ট দিয়ে আমদানি হয়? জেনে নিতে পারেন কি কি আইটেম, কিভাবে কলকাতা থেকে ঢাকায় ইমপোর্ট করা যায়।

লকডাউনের সময় শিপমেণ্ট বিড়ম্বনা

জুলাই ২০২০ এর প্রথম সপ্তাহ থেকে কলকাতা থেকে ঢাকায় কার্গো ফ্লাইট চালু হয়েছে। কিন্তু তাতে কি আসলেই এই লকডাউনের সময়ে শিপমেণ্ট বিড়ম্বনা সমস্যার ইতি ঘটেছে? এখন পর্যন্ত না। এক দিকে ফ্লাইটের Schedule অনিশ্চিত, অন্যদিকে কাস্টমস এর জটিলতা। তার উপর কলকাতার নির্দিষ্ট কিছু এলাকাতে আবারো নতুন করে লকডাউন! সব কিছু মিলিয়ে এখনো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠেনি। এখনো আমদানিকারকেরা হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারেননি। এরই মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা দোর-গোড়ায়। তারপরেই সামনে দূর্গাপূজার প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে এখনো অনিশ্চয়তার সম্ভাবনা তুঙ্গে।

তবে সবশেষে আশার আলো এইটুকুই যে এখন নিয়মিত না হলেও প্রতি সপ্তাহে কলকাতা থেকে ঢাকায় কার্গো ফ্লাইট আসছে। এই পরিস্থিতিতে যদিও খরচ অনেক বেড়েছে তারপরেও ব্যবসায়ীরা আশাবাদী যে পণ্য সময়মতো হাতে পেলে হয়তো লোকসান কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Back to blog