Why Our Price Seems Higher?

আমাদের Social Media তে প্রায়ই আমরা এমন অনেক অনেক মেসেজ পাই যে আমাদের প্রাইস অনেক বেশি। প্রশ্নগুলো ঠিক কেমন আমরা শুরুতে একটু দেখে নেই, তারপর আমরা চেষ্টা করবো এর কারণ ব্যাখ্যা করতে। প্রশ্নগুলো এমনঃ

১। আপনাদের প্রাইস এতো বেশি কেনো?

২। আপনারা কয়গুণ লাভ রাখেন?

৩। তিন/ চার গুণ বেশি দাম দিয়ে আপনাদের থেকে কেনো কিনবো?

৪। ডলার/ রূপীর রেইট কতো?

৫। আপনারা কিভাবে Costing করেন?

৬। আপনাদের Costing এর Breakdown দিন।

মোটামুটি এই ধরনের প্রশ্নগুলোই আমরা পাই। আমাদের কাস্টোমার সার্ভিস থেকে যতোটা সম্ভব সেটার উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়, তবে Costing এর সব ডিটেইলস কাস্টোমার সার্ভিসে শেয়ার করা হয় না। এমনকি একটা প্রতিষ্ঠানের Costing সেই প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে Sensitive তথ্য। এটা Available করা কতোটা যুক্তিসঙ্গত আবদার (আবদার বলছি এর অবশ্যই কারণ আছে) সেটার কোন পরিমাপক না থাকলেও আমরা আসলে চেষ্টা করবো কেনো আমাদের প্রাইস বেশি মনে হয় সেই ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে।

আমরা কিভাবে প্রাইসিং করি

প্রথমেই জানিয়ে দেই আমরা কিভাবে প্রাইসিং করি। আমাদের প্রাইসিং টা আমরা যতোটা সম্ভব স্ট্যাণ্ডার্ড মেইনটেইন করে করার চেষ্টা করি। এর জন্য আমরা অবশ্যই Costing এর বেসিক মেথড এপ্লাই করি যেখানে Total Cost = Fixed Cost + Variable Cost.

এখানে একটা ব্যাপার না বললেই নয়, সেটা হচ্ছে যারা একটা প্রোডাক্টের রূপীর প্রাইস কে সরাসরি টাকায় ভ্যালু হিসেব করে ২/৩গুণ বেশি দাম কেনো হচ্ছে মনে করেন তাদেরকে অনুরোধ করবো একটু মনোযোগ দিয়ে এই বিষয়গুলো খেয়াল করতে। আমরা সবচেয়ে বেশি এই ধরনের প্রশ্ন পাই শ্রীলেদারস এর জুতার প্রাইসিং নিয়ে। কারণ এটা অনেক পপুলার একটা ব্র্যাণ্ড। তাই শ্রীলেদারস এর জুতার Costing করেই একটা উদাহরণ আমরা দেই।

এখানে ২ টা সেণ্ডেলের দাম আর আনুমানিক ওজন দেখানো হয়েছে। A মার্ক করা সেণ্ডেলের দাম ২৪৫ রূপী যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ৩৫৫ টাকা। বর্তমানে শিপিং চার্জ প্রতি কেজিতে আমরা ১,২৫০ টাকা করে নিচ্ছি, আর সেই হিসাব করলে এর শিপিং চার্জ আসে ৩৭৫ টাকা। নীট খরচ হচ্ছে ৭৩০ টাকা। 

এবার B মার্ক করা ৮২০ রূপীর সেণ্ডেলটির কেনা দাম হচ্ছে ১,১৮৮ রূপী আর শিপিং চার্জ হচ্ছে ৫৪৩ টাকা। নীট খরচ হচ্ছে ১,৭৩১ টাকা।

এবার একটু হিসাব করলেই দেখা যায় ১ম সেণ্ডেলের দাম হচ্ছে প্রায় ৩ গুণ আর ২য় সেণ্ডেলের দাম হচ্ছে প্রায় ২ গুণ (রাউণ্ড ফিগার করে)।

এই তো গেলো নীট খরচ। এবার কিছু খরচের হিসাব আলাদা আলাদা করে আপনাদের জানিয়ে দেয়া যাক!

একটা প্রোডাক্ট কেনার খরচের সাথে আর কি কি খরচ হয়

প্রোডাক্টটা যদি অনলাইনে কিনতে হয় সেক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে শিপিং চার্জ দিতে হয়। স্টোর থেকে গিয়ে কিনতে যাওয়া-আসা বাবদ ভাড়া খরচ হয়। যে যাবে সেও তো আর এমনি এমনি যাবে না, তাই না? এই গেলো একটা খরচ।

প্রোডাক্ট টা কেনার পরই শিপিং হয় না। কোথাও স্টোর করা হয়। সে যায়গার খরচ আছে, যখন শিপমেণ্ট করা হয় তখন প্যাকেজিং ম্যাটারিয়াল কিনতে খরচ হয়, প্যাকেজিং এর পর প্রোডাক্টের ওজন আরো বাড়ে, সেটার জন্য খরচ বাড়ে।

এরপর আসা যাক ট্রান্সপোর্টের খরচ! স্টোর থেকে এয়ারপোর্ট পাঠাতে খরচ হয়, কার্গো বুকিং করতে খরচ হয়, এটা আবার ফিক্সড না, দিন যায় আর বাড়ে। এখান থেকে বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ার করে আমাদের ঢাকা ওয়্যারহাউজ পর্যন্ত যে খরচ সেটাই শিপিং চার্জের মধ্যে থাকে।

এই টোটাল প্রসেসের জন্য কিছু মানুষ কাজ করে, কিছু Administrative খরচ থাকে, যিনি Owner তার প্রফিট থাকে, ইনকাম ট্যাক্স (পারসোনাল/ কর্পোরেট) থাকে। কারেন্সী কনভার্শনের উঠা-নামা থাকে, রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে। এইগুলো সব যদি খরচের হিসাবে আসে সেটা কতো পারসেন্ট হওয়া উচিত সেটা আপনারা আপনাদের ইচ্ছা মতো Costing এর সাথে যোগ করে নিবেন প্লিজ। 

আমরা কতো গুণ প্রফিট/ লাভ করি?

আপনি যদি উপরের খরচ ৩০% ও ধরেন তারপরেও আমাদের প্রাইস দেখবেন যে কম হয়। আমরা এখন পর্যন্ত চেষ্টায় আছি একটা স্ট্যাণ্ডার্ড মেনে বিজনেস চালিয়ে যাওয়ার আর যতোটা দ্রুত সম্ভব Break-Even এ যাওয়ার। প্রাইসিং এ যে খরচটা না রাখলেই নয় আমরা শুধু সেটাই রাখছি। এরপরেও যদি আপনাদের মনে হয় আমাদের প্রাইসিং বেশি বা এইগুলো যদি আপনাদের বিবেচনায় না আসে তাহলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আমরা ১,০০০ টাকার জিনিস ৯৯৯ টাকায় বিক্রি করার পক্ষপাতি না, বরং ১,৩০০ টাকায় বিক্রি করার পক্ষে। কেনো? টোটাল মার্জিন যদি ৩০% না থাকে তাহলে একটা বিজনেস কিভাবে চলবে? এই ৩০% এর মধ্যেই কিন্তু খরচ থাকবে, আর সাথে থাকবে লাভ/ লস।

অন্যরা কিভাবে কমে সেল করে?

এর উত্তর আপনারাও জানেন। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বেশ কয়েকটা ই-কমার্স নামে ই-কমার্স ইণ্ডাস্ট্রি ধ্বংস করার জন্য কিছু কোম্পানি এসেছে। নামগুলো বলে দিচ্ছি কারণ এখানে কাউকে অবমাননা বা হেয় করার কোন ব্যাপার নেই। ইভ্যালি। নামটা নিশ্চয়ই জানা? ই-অরেঞ্জ, আলিশা মার্ট, দালাল বাজার… এমন আরো অনেক কোম্পানি হয়তো পাওয়া যাবে। এদের চেয়ে কম দামে কেউ কোন প্রোডাক্ট হয়তো সেল করেনি। দিন শেষে ঘটনা কি ঘটেছে তা তো অবশ্যই জানা থাকার কথা। আপনি যদি এমন লোভনীয় অফার বা দাম আমাদের কাছে আশা করেন, আমরা দুঃখিত। আবারও বলছি আমরা ১,০০০ টাকার প্রোডাক্ট ১,৩০০ টাকার কমে সেল করতে রাজি না আর ৫০০ টাকায় সেল করা তো অনেক দূরের কথা!

উদাহরণ টা Apple to Apple Comparison মনে হলো না, তাই তো? যাই হোক এটা Overall সিনারিও। এবার তাহলে Apple to Apple Comparison এর একটা উদাহরণ দেই। নিচের ছবিটি দেখুন-

imported-by-others

আমাদের একজন কাস্টোমারের গল্প। মাস দুয়েক আগে উনি আমাদের Owner এর সাথে এই একই প্রসঙ্গে আলোচনা করেন যে অন্যরা কিভাবে কম প্রাইসে প্রোডাক্ট দেন। আলোচনা শেষে উনি সিদ্ধান্ত নেন যে উনি অন্য ইমপোর্টার কে দিয়ে কম খরচে প্রোডাক্ট আনাবেন। প্রথম ৩/৪ টা শিপমেণ্টের পর তার কিছু ঘড়ি তিনি এই অবস্থায় পেয়েছেন। আর আমরা যখন ইমপোর্ট করেছি তখন উনার প্রোডাক্ট কিভাবে পেয়েছিলেন সেটা দেখে নিন নিচের ছবি থেকে-

imported-by-kolkata-2-dhaka

হলো তো Apple to Apple Comparison? কেউ যদি Verify করতে চান আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন, আমরা ভ্যারিফাই করার জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নিবো। আমরা কালার ভ্যারিয়েশনের জন্য আর আপেক্ষিক কোন কমপ্লেইন (যেমনঃ এই কাপড়ের কোয়ালিটি টা কেমন কেমন যেন; এই কেমন কেমনের আসলে কোন সমাধান নেই) Accept করি না। সেজন্য আমাদের কোন এক্সচেঞ্জ/ রিটার্ণ/ রিফাণ্ডের সুযোগও নেই। কিন্তু আমাদের তরফ থেকে যদি কোন ড্যামেজড প্রোডাক্ট আপনার হাতে যায়, সেটা ডেলিভারি ম্যানের সামনে রিসিভ করলে বা যথাযথ ভাবে পার্সেল ওপেনিং ভিডিও করে রাখলে আমরা ২য় কোন প্রশ্ন ছাড়া ফুল রিফাণ্ড বা এক্সচেঞ্জ করে দেই।

অনেক তো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হলো, এবার একটু থিউরি শেয়ার করে আজকের মতো শেষ করা যাক। নিচের ছবিটি প্রাইস আর কোয়ালিটির একটা Matrix. সাথে আমাদের লোগো দিয়ে এটাও মেনশন করা আছে যে আমরা কোন স্লটে/ কোন স্ট্রাটেজি ফলো করি। ভালো থাকবেন। সঠিক দামে ঠিক-ঠাক প্রোডাক্ট কিনবেন। নিজে ভালো থাকবেন, পাশাপাশি যারা ভালোভাবে বিজনেস করে তাদেরকে সাপোর্টও দেয়া হবে।  

price-vs-quality-matrix
Back to blog